Samsung Galaxy Z Fold Special এর দাম কত? জানুন এর অবিশ্বাস্য স্পেসিফিকেশন
আপনি কি স্যামসাংয়ের সবচেয়ে পাতলা এবং শক্তিশালী ফোল্ডেবল স্মার্টফোনটি কেনার কথা ভাবছেন? আজ আমরা কথা বলব Samsung Galaxy Z Fold Special এডিশন নিয়ে। এটি শুধুমাত্র একটি ফোন নয় বরং প্রযুক্তি এবং বিলাসিতার এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই পোষ্টে আমরা এর দাম, ফিচার এবং বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন নিয়ে আলোচনা করব।
নতুন যুগের ফোল্ডেবল স্মার্টফোন
স্যামসাং বরাবরই ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে রাজত্ব করে আসছে। তবে Samsung Galaxy Z Fold Special সংস্করণটি আগের সব মডেলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এটি যেমন পাতলা, তেমনি এতে যুক্ত করা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের দানবীয় ক্যামেরা। যারা বড় স্ক্রিনে মাল্টিটাস্কিং করতে পছন্দ করেন এবং পকেটে একটি স্টাইলিশ ডিভাইস রাখতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ হতে পারে।
কেন এই ফোনটি স্পেশাল?
এই ফোনের মূল আকর্ষণ হলো এর ডিজাইন। এটি সাধারণ ফোল্ড ৬ এর তুলনায় অনেক বেশি স্লিম। যখন আপনি ফোনটি হাতে নেবেন, তখন মনেই হবে না যে এটি একটি ফোল্ডেবল ফোন। এছাড়াও এর ১৬ জিবি র্যাম এবং স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৩ প্রসেসর একে করে তুলেছে সুপার ফাস্ট।
Samsung Galaxy Z Fold Special এর ডিসপ্লে অভিজ্ঞতা
ডিসপ্লে হলো একটি ফোল্ডেবল ফোনের প্রাণ। এই ফোনে দুটি অসাধারণ ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে:

মেইন ডিসপ্লে (Main Display)
ফোনের ভেতরে রয়েছে ৮.০ ইঞ্চির বিশাল একটি Foldable Dynamic LTPO AMOLED 2X প্যানেল। এর রেজোলিউশন ১৯৬৮ x ২১৮৪ পিক্সেল। এতে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রলিং এবং গেমিং হবে পানির মতো স্মুথ। সর্বোচ্চ ২৬০০ নিটস ব্রাইটনেস থাকায় কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হবে না।
কভার ডিসপ্লে (Cover Display)
ফোনের বাইরের দিকে রয়েছে ৬.৫ ইঞ্চির একটি ডিসপ্লে। অনেক সময় কভার ডিসপ্লে বেশি সরু হওয়ার কারণে টাইপ করতে সমস্যা হয়, কিন্তু এই স্পেশাল এডিশনে কভার ডিসপ্লেটি বেশ চওড়া করা হয়েছে, যা সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই অনুভূতি দেবে। এটিও ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে এবং এতে রয়েছে Corning Gorilla Glass Victus 2 এর সুরক্ষা।
পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যার
স্মার্টফোনটির ভেতরে রয়েছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী চিপসেট Qualcomm Snapdragon 8 Gen 3। এটি ৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি, যার ফলে ফোনটি যেমন দ্রুত কাজ করবে, তেমনি ব্যাটারিও সাশ্রয় করবে।
| ফিচার | বিস্তারিত |
| প্রসেসর | Octa-core Snapdragon 8 Gen 3 |
| র্যাম (RAM) | 16 GB LPDDR5X |
| রম (ROM) | 512 GB UFS 4.0 |
| গ্রাফিক্স (GPU) | Adreno 750 |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android 14 (One UI 6.1.1) |
এই শক্তিশালী কম্বিনেশনের কারণে আপনি এই ফোনে ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে হেভি গেমিং—সবকিছুই অনায়াসে করতে পারবেন। এর ১৬ জিবি র্যাম নিশ্চিত করে যে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলো অ্যাপ চললেও ফোনটি ল্যাগ করবে না।
ক্যামেরা: ২০০ মেগাপিক্সেলের চমক
স্যামসাং তাদের ফোল্ড সিরিজে প্রথমবারের মতো ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর যুক্ত করেছে। যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি বিশাল বড় আপডেট।
- মেইন ক্যামেরা: ২০০ মেগাপিক্সেল (f/1.8 aperture) যা অত্যন্ত ডিটেইলড ছবি তুলতে সক্ষম। এতে ওআইএস (OIS) প্রযুক্তি আছে, যা ভিডিও করার সময় হাত কাঁপলেও ভিডিও স্থিতিশীল রাখে।
- টেলিফটো লেন্স: ১০ মেগাপিক্সেলের ৩এক্স অপটিক্যাল জুম লেন্স।
- আল্ট্রাওয়াইড লেন্স: ১২ মেগাপিক্সেল লেন্স যা ১২৩ ডিগ্রি ভিউ ক্যাপচার করতে পারে।
- সেলফি ক্যামেরা: ফোনের ভেতরে ৪ মেগাপিক্সেলের আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা এবং কভার ডিসপ্লেতে ১০ মেগাপিক্সেলের পাঞ্চ হোল ক্যামেরা।
আপনি এই ফোন দিয়ে ৮কে (8K) রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন, যা প্রফেশনাল লেভেলের ভিডিওগ্রাফিতে সাহায্য করবে।
ব্যাটারি এবং চার্জিং প্রযুক্তি
এত বড় ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী প্রসেসর চালানোর জন্য এতে দেওয়া হয়েছে ৪৪০০ mAh এর লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। যদিও বর্তমান সময়ে এটি খুব বেশি মনে হতে পারে না, তবে স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটের অপ্টিমাইজেশনের কারণে আপনি সারাদিন ব্যাকআপ পাবেন।
- চার্জিং: ২৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং (৩০ মিনিটে ৫০% চার্জ হওয়ার দাবি)।
- ওয়্যারলেস চার্জিং: ১৫ ওয়াট।
- রিভার্স চার্জিং: ৪.৫ ওয়াট (এটি দিয়ে আপনি আপনার গ্যালাক্সি বাডস চার্জ করতে পারবেন)।
ডিজাইন এবং স্থায়িত্ব
Samsung Galaxy Z Fold Special ফোনের পুরুত্ব মাত্র ১০.৬ মিলিমিটার (ফোল্ড অবস্থায়), যা একে পৃথিবীর অন্যতম পাতলা ফোল্ডেবল ফোন করে তুলেছে। এর ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর্মার অ্যালুমিনিয়াম এবং পেছনের অংশে রয়েছে গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২। ফোনটি IP48 সার্টিফাইড, অর্থাৎ এটি পানি এবং ধুলিকণা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
বাংলাদেশে Samsung Galaxy Z Fold Special এর দাম ও রিলিজ ডেট
অনেকেই জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে এই ফোনের অফিশিয়াল দাম কত হবে। যদিও এটি মূলত কোরিয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশে লঞ্চ হয়েছে, তবে বাংলাদেশে আনঅফিশিয়াল বা নির্দিষ্ট শোরুমগুলোতে এটি পাওয়া যেতে পারে।
- প্রত্যাশিত দাম: ২,৫০,০০০ টাকা (১৬/৫12GB ভ্যারিয়েন্ট)।
- মুক্তির তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৪ (গ্লোবাল লঞ্চ)।
সুবিধা ও অসুবিধা
যেকোনো স্মার্টফোন কেনার আগে তার ভালো ও মন্দ দিকগুলো জেনে নেওয়া জরুরি। নিচে বিস্তারিত প্রদান করা হয়েছেঃ
- অত্যন্ত পাতলা এবং প্রিমিয়াম ডিজাইন।
- ২০০ মেগাপিক্সেলের অসাধারণ ক্যামেরা।
- বিশাল ৮ ইঞ্চির ব্রাইট ডিসপ্লে।
- ১৬ জিবি র্যামের কারণে সুপার ফাস্ট পারফরম্যান্স।
- ওয়াইফাই ৭ (Wi-Fi 7) সাপোর্ট।
- দাম সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের বাইরে।
- ২৫ ওয়াট চার্জিং বর্তমান সময়ে কিছুটা ধীরগতির মনে হতে পারে।
- এস-পেন (S-Pen) সাপোর্ট নেই।
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
Samsung Galaxy Z Fold Special কি বাংলাদেশে পাওয়া যায়?
বর্তমানে এটি নির্দিষ্ট কিছু গ্লোবাল মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার বা বড় শোরুমগুলোতে প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে এটি সংগ্রহ করা যেতে পারে।
এই ফোনের ক্যামেরা কেমন?
এই ফোনে ২০০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ এস২৪ আল্ট্রার সমতুল্য।
ফোনটি কি ওয়াটারপ্রুফ?
হ্যাঁ, এটি IP48 রেটিং প্রাপ্ত, যার মানে এটি ১.৫ মিটার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে।
এতে কি মেমোরি কার্ড লাগানো যায়?
না, এই ফোনে আলাদা কোনো মেমোরি কার্ড বা এসডি কার্ড স্লট নেই। তবে এর ৫১২ জিবি স্টোরেজ সাধারণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
শেষ কথা
Samsung Galaxy Z Fold Special মূলত তাদের জন্য যারা প্রযুক্তির একদম লেটেস্ট ভার্সনটি ব্যবহার করতে চান। এর দুর্দান্ত ক্যামেরা, স্লিম ডিজাইন এবং বিশাল ডিসপ্লে আপনাকে স্মার্টফোন ব্যবহারের এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। দাম একটু বেশি হলেও এর প্রিমিয়াম ফিচারগুলো সেই অভাব পূরণ করে দেবে। আপনি যদি একজন মাল্টিটাস্কার হন এবং বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকে, তবে এই ফোনটি আপনার সংগ্রহে রাখার মতো একটি ডিভাইস।
